গোপালপুর চৌধুরী বাড়ি মসজিদ

“নোয়াখালীর ঐতিহাসিক স্থাপত্য নিদর্শন বেগমগঞ্জ”

নোয়াখালী বার্তা | ৪ ডিসেম্বর, ২০১৭ | ১৮:০৩ অপরাহ্ণ |আপডেট: ৪ ডিসেম্বর, ২০১৭ | ১৮:০৩

মো.ইমাম হোসেইন: মোগল আমলে তৈরী শত শত বছরের প্রাচীন ঐতিহ্য বহন করছে নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার গোপালপুর ইউনিয়নের চৌধুরী বাড়ি জামে মসজিদটি। বৃহত্তর নোয়াখালীতে সোনাইমুড়ীর বজরা শাহী মসজিদের পর এটাই ভারতবর্ষে মোগল শাসনামলে মোগল বাদশাহদের নির্মিত প্রাচীন ও ঐতিহাসিক স্থাপত্য নিদর্শন। ভারতের ঐতিহাসিক দিল­ী শাহী মসজিদের আদলে হুবহু তৈরী মসজিদটি দেশের অন্যতম ঐতিহ্যবাহী ঐতিহাসিক নিদর্শন হিসেবে বিবেচিত হওয়ার দাবী রাখে। নান্দনিক ও প্রাচীন কারুকাজ সমৃদ্ধ হওয়ায় মসজিদটি দেখতে বিভিন্ন এলাকার লোকজন নিয়মিত আসেন। এটি নোয়াখালীর প্রাচীন, ঐতিহাসিক ও প্রত্নতাত্ত্বিক ভাবে গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় স্থাপনা হিসেবে পরিচিত।

গোপালপুর ইউনিয়নের প্রবীণ তিন ব্যাক্তি জানান, এ জামে মসজিদটির স্থায়িত্বকাল প্রায় তিন শত বছরের মতো। এখানে পূর্ব-পুরুষদের ধর্মীয় অনেক স্মৃতি রয়েছে। জানতে চাইলে চৌধুরী বাড়ি জামে মসজিদের ইমাম সাহেব বলেন, বৃটিশ আমলের জমিদারী প্রথার আনেক আগে মোগল আমলে মসজিদটি নির্মাণ করা হয়।

গোপালপুর ইউনিয়নের কৃতি সন্তান, দেশের বিশিষ্ট ইসলামী গবেষক ও ইতিহাসবিদ কুষ্টিয়াস্থ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের দা’ওয়া অ্যান্ড ইসলামিক ইস্টাডিজ বিভাগের প্রফেসর ড. আহসান উল­াহ ফয়সল বলেন, আনুমানিক ১৬০০ ঈসায়ী সালের শেষ দিকে বা ১৭০০ এর প্রথম দিকে তৎকালীন সময়ে ঐ অঞ্চলে ইসলাম প্রচার করতে আসা হযরত শাহ আলী বোগদাদী (রঃ) এর কবরের পাশে মোগলরা মসজিদটি নির্মাণ করেন।

মূলত হযরত শাহ আলী বোগদাদী (রঃ) এর সম্মানে দিল­ীর মোগল বাদশাহর স্থানীয় প্রতিনিধিদের দ্বারা দিল­ী শাহী মসজিদের অনুকরণে মসজিদটি নির্মাণ করা হয়। মোগলদের দ্বারা নির্মিত শাহী মসজিদ হলেও পরবর্তীতে গোপালপুরের স্থানীয় প্রভাবশালীরা বৃটিশদের জমিদারী প্রথায় দায়িত্বপ্রাপ্ত হলে তাদের প্রভাব প্রতিপত্বির কারণে মসজিদটি স্থানীয় জমিদার বাড়ী বা চৌধুরী বাড়ি মসজিদ হিসেবে পরিচিতি পায়। অপ্রিয় ও দুঃখজনক হলেও সত্য, বৃটিশ আমলে গোপালপুরের চৌধুরীদের প্রভাবশালী অবস্থান আর অত্যাচার নির্যাতনের কারণে পুরো নোয়াখালীর পশ্চিমাঞ্চলের লোকজন টু-শব্দটিও করতনা। ঐ সুদীর্ঘকাল এলাকার গণ-মানুষের সাথে তাদের নির্মম অসহাবস্থানের দরুন এ মসজিদটি ঐতিহাসিক শাহী মসজিদের খ্যাতি থেকে বঞ্চিত হয়!

কালের গর্বে চাপা পড়ে যাওয়া সেই মর্মন্তুদ ইতিহাস দেশের বিভিন্ন গবেষক, ঐতিহাসিক ও পর্যটকদের পুরনো পুথি আর কুঠিতে থাকলেও জানেনা স্থানীয় লোকজন। এ বিষয়ে ইউনিয়নের শিক্ষিত ও সচেতন জনগোষ্ঠীর আগ্রহ ও অনুসন্ধিৎসু চিন্তা ভাবনা লক্ষ্য করা না গেলেও ইদানিং ছোট্ট এ বাংলাদেশকে গিরে একদল তরুণ গবেষক ও পর্যটকের সুদৃষ্টিতে পড়ে নোয়াখালীর প্রাচীন ও ঐতিহাসিক এ মসজিদটি।

স্থানীয়ভাবে মসজিদটি ঐতিহাসিক ও প্রত্নতাত্ত্বিক কভাবে গুরুত্বপূর্ণ। প্রাচীন স্থাপনা হিসেবে নতুন প্রজম্মের কাছে এর গুরুত্ব রয়েছে।প্রতিদিন নিয়মিত আশপাশের এলাকার লোকজন ও দূরদূরান্ত থেকে আগত পর্যটকরা মসজিদটি দেখতে ও নামাজ আদায় করতে আসছেন। বর্তমানে মসজিদটির দুই পাশে (উত্তর ও দক্ষিণ) বর্ধিত করে কিছু সংস্কার কাজ করানো হয়েছে, মাঝখানে মূল ভবন এখনো অক্ষত রয়েছে।

নোয়াখালীর জেলা পরিষদ ও সরকারের প্রত্নতাত্ত্বিক বিভাগের পক্ষ থেকে মসজিদটির ঐতিহাসিক গুরুত্ব ও প্রাচীন করুকাজ খচিত নির্মাণশৈলী সংরক্ষণের জন্য এটিকে সরকারী হেফাজতে নেওয়ার জন্য উদ্যোগ গ্রহণ জরুরী।

Please follow and like us:
error0

এরকম আরো সংবাদ