চর জাগছে দক্ষিণাঞ্চলে

হাতিয়া হতে পারে বিশাল আয়তনের জেলা

নোয়াখালী বার্তা | ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ | ০৭:১৮ পূর্বাহ্ণ |আপডেট: ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ | ০৭:১৮

হাতিয়া প্রতিনিধি: নোয়াখালীর দক্ষিনাঞ্চলীয় মেঘনার বুকে নতুন চর জাগছে। গত তিন দশকে জেগে উঠা চরে ৩ টি ইউনিয়ন প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি কমপক্ষে আরো ৮/১০টি ইউনিয়নের আয়তন সমপরিমাণ ভূমি জেগেছে। এক কথায় আগামী এক দশকে হাতিয়া উপজেলার আয়তন একটি বিশাল আয়তনের জেলার সমান হবে।

মেঘনার অব্যাহত ভাঙ্গনে দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ায় যে পরিমান ভূমি বিলীন হচ্ছে- তেমনিভাবে চতুপার্শ্বে অন্তত দশগুণ ভূমি জেগে ওঠছে। হাতিয়ার হরণী ও চাঁনন্দী ইউনিয়নের সীমানা পেরিয়ে পূর্ব-দক্ষিনে বিশাল ভূমি এখন স্বর্ণদ্বীপ হিসেবে পরিচিত। স্বর্ণদ্বীপের আয়তন একটি উপজেলা আয়তনের সমান হবে। স্বর্ণদ্বীপের ১৫ কিলোমিটার মেঘনা পেরিয়ে দক্ষিণে ভাষানচরের অবস্থান। রোহিঙ্গা শরনার্থী পূর্ণবাসনে ভাষানচরে অবকাঠামো নির্মাণ কাজ চলছে। ভাষানচরের আয়তন প্রায় আড়াইশত বর্গ কিলোমিটার। ভাষানচরের দেড় কিলোমিটার দক্ষিণে ১শ’ বর্গ কিলোমিটার আয়তনের গাঙ্গুরিয়ার চরের অবস্থান।

আগামী ৪/৫ বছরের মধ্যে গাঙ্গুরিয়ার চরে চাষাবাদ শুরু হবে। হাতিয়া মূল ভূখন্ডের নলচিরা ঘাট থেকে ২০ কিলোমিটার উত্তরে চেয়ারম্যান ঘাটের মধ্যবর্তী নদীতে জেগে ওঠা বেশ কয়েকটি ডুবোচর নৌ-যান চলাচলে হুমকি সৃষ্টি হচ্ছে। হাতিয়া দ্বীপের উত্তর-পূর্ব দিকে দুই দশক পূর্বে জেগে উঠা চর নূর ইসলামে এখন চাষাবাদ চলছে। অপরদিকে বুড়িরচর ইউনিয়নের রহমত বাজারের দেড় কিলোমিটার পূর্বে মেঘনায় গত এক দশকে অন্তত ৫০ বর্গকিলোমিটার ভূমি জেগেছে। বিস্ময়ের ব্যাপার হচ্ছে, বুড়িরচর ইউনিয়নের পূর্ব-দক্ষিনে কালিরচর পেরিয়ে দক্ষিন-পূর্ব দিকে একটি ইউনিয়ন আয়তনের সমান ভূমিতে জনবসতি গড়ে উঠার পাশাপাশি এখানে চাষাবাদ ও শুটকী তৈরীর হচ্ছে। কালির চরের পূর্ব ও দক্ষিনে সাগরের বুক চিরে আগামী দেড় দশকে আরো চার শতাধিক বর্গকিলোমিটার ভূমি জেগে ওঠার আশাপোষণ করছে স্থানীয় অধিবাসীরা। হাতিয়া উপজেলার পশ্চিমে তমরদ্দি ঘাট থেকে পশ্চিমে ভোলা’র মনপুরা উপজেলা। তমরদ্দি নৌ-ঘাট থেকে মনপুরা উপজেলার দূরত্ব ৮/৯ বর্গমাইল। গত ৮/১০ বছর দুই পার্শ্বের হাতিয়া নদীতে সাতটি চর জেগেছে। এরমধ্যে কলাতলী, তেলিয়ারচর, বদনার চর, ঢালচর ও মৌলভীর চরে বনায়ন ও চাষাবাদ চলছে। আগামী এক দশকে এসব চরের আয়তন হবে প্রায় পাঁচশত বর্গকিলোমিটার ।

হাতিয়া উপজেলা নিঝুমদ্বীপ ইউনিয়নের দক্ষিন-পূর্ব পার্শ্বে ভূমির আয়তন বাড়ছে। এখানে দেড় দশক পূর্বে জেগে ওঠা ১শ’ বর্গকিলোমিটার আয়তনের দমার চরে এখন দশ সহ¯্রাধিক অধিবাসী বসবাস রয়েছে। দমারচরে ধান, তরিতরকারী ও রবিশস্য উৎপাদনে সুখ্যাতি রয়েছে। নিঝুমদ্বীপের দক্ষিন-পূর্ব দিকে গভীর সমুদ্র অর্থাৎ বিশাল বঙ্গোপসাগরের অবস্থান। জাহাজমারা মোক্তারিয়া ঘাট থেকে জেলেরা দক্ষিনে গভীর সমুদ্রে রওয়ানা দেয়ার পর ৫০/৬০ কিলোমিটার দূরত্বে পানির গভীরতা দেখতে পায় মাত্র ১২/১৪ ফুট। অর্থাৎ আগামী এক থেকে দেড় দশকে এখানে অন্তত ২টি উপজেলা আয়তনের বিশাল ভূমি জেগে ওঠার উজ্বল সম্ভাবনা রয়েছে বলে জেলেদের সুত্রে জানা গেছে। অন্যদিকে নিঝুমদ্বীপের পূর্ব দিকে গভীর সমুদ্রের বুকে আরো ৮/১০ টি ডুরো চরের সন্ধান পেয়েছে জেলেরা। সবকিছু মিলিয়ে আগামী এক থেকে দেড় দশকে নোয়াখালী দক্ষিণাঞ্চলীয় দ্বীপ উপজেলা হাতিয়া’র আয়তন দেশের দুইটি জেলার আয়তনের সমান হবে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে।

উল্লেখ্য, দেশের অন্যান্য নদ নদীর চাইতে এখানকার মেঘনা নদী বছরের অধিকাংশ সময় উত্তাল থাকে। বিশেষ করে বঙ্গোপসাগর থেকে জোয়ারের সাথে প্রতিদিন কোটি কোটি টন পলিমাটি মেঘনায় প্রবাহিত হয়। যার সুবাদে এখানকার নদীর স্রোত পরিবর্তনের পাশাপশি অসংখ্য চর জেগে উঠছে। হাতিয়া উপজেলার কয়েকজন জনপ্রতিনিধি ও জেলের সূত্রে জানা গেছে, হাতিয়া দ্বীপের চতুপার্শ্বে আরো প্রায় অর্ধশতাধিক ডুবোচরের অস্তিত্ব পাওয়া গেঝে। আগামী এক দশকে ডুবোচরগুলো পরিপূর্ণতা লাভ করবে। অর্থাৎ মেঘনায় প্রতি বছর যে হারে চর জাগছে- তার পাশাপাশি দশগুণ ভূমি জেগে উঠছে।

Please follow and like us:
error0

এরকম আরো সংবাদ