নোয়াখালীর সদরের তরুণীকে ধর্ষনের অভিযোগে থানায় মামলা

দৈনিক নোয়াখালীবার্তা | ৭ সেপ্টেম্বর, ২০২০ | ১৬:১৬ অপরাহ্ণ |আপডেট: ৭ সেপ্টেম্বর, ২০২০ | ১৬:১৬

ষ্টাফ রিপোর্টার: নোয়াখালী সদর উপজেলার ৯ নং কালাদরপ ইউনিযনের ৮ নং ওয়ার্ডে চুলডগি গ্রামের কাসেম মুহুরির মুরগির ফার্মে পাশে ছিদ্দিক উল্ল্যাহ বাগানে ধর্ষনের ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ করেন ধর্ষিতা তরুণীর মা লাকী বেগম (৪৬)।
লাকী বেগম অভিযোগ করে বলেন,আমার মেয়ে কে (১৩) গত ২৮ জুলাই বিকালে মুরগীর ডিম আনার জন্য ফামে পাঠাই।ফার্মে গিয়ে সে মামুনকে (৩২) ডিম দিতে বললে মামুন খাঁচি থেকে ডিম নিতে বলে। মেয়ে ডিম নিতে গেলে মামুন মেয়ের উর্ন্না দিয়ে আমার মেয়ের মুখ চাপিয়ে ধরে মেয়েকে চুপ থাকতে বলে।
এ সময় সেখানে মামুনের সহযোগী আবু জাকেরের ছেলে আলী (৩১) ,রহিম বাদশার ছেলে রিপন প্রকাশ রিপা (২৫) চুরি এবং লাঠি দেখিয়ে মেরে ফেলার ভয় দেখিয়ে জোর পূর্বক মেয়েকে তুলে নিয়ে কাসেম মুহুরির মুরগির ফার্মে পাশে ছিদ্দিক উল্ল্যাহ বাগানে আলী ও রিপন প্রকাশ রিপা তাদের সহযোগিতায় আমার মেয়েকে আবুল কালামের ছেলে মামুন জোর পূর্বক আমার মেয়ের ইচ্ছার বিরুদ্ধে তাকে ধর্ষন করে।
এক পর্যায়ে মেয়ের শোর চিৎকারে আশে-পাশের লোক জন টের ফেলে মামুন ,আলী ও রিপন পালিয়ে যায়। আমার মেয়ে আসতে দেরী হওয়াতে আমি মুরগীর র্ফামের দিকে এগিয়ে গেলে মাঝ পথে মেয়েকে কান্না করতে করতে আসতে দেখলে আমি তাকে জিজ্ঞাসা করলে সে আমাকে এ ঘটনার কথা বিস্তারিত ভেঙ্গে বলে।
আমি পরদিন সকালে ইউপি কার্যালয়ে গিয়ে চেয়ারম্যান মিজানুর রহমানের নিকট বিষয়টি জানালে তিনি বিচার করে দিবেন বলে আশ্বাস দেন । প্রায় ১০ দিন পেরিয়ে গেলে ও কোন শুরাহা না হওয়ায় আবার চেয়ারম্যানের নিকট গেলে চেয়ারম্যান ৮ নং ওয়ার্ডে সাবেক মেম্বার নুর আলম কালাকে বিচারের দায়িত্ব দেন।
মেম্বার বিচার না করে কাল ক্ষেপন করে ১০,২০ হাজার টাকা দিয়ে সমাধান করার চেষ্টা করেন। এতে আমি রাজি না হওয়ায় ধর্ষণকারী মামুন ও তার সহযোগী গভীর রাতে বাড়িতে গিয়ে আমাকে হুমকি দেয় যেন আমি এ ব্যাপারে কাউকে কিছু না বলি এবং মামলা না করি। এবং যাওয়ার সময় বলে যায় আমাদের কথা না শুনলে ১০/১২ জন নিয়ে এসে মেয়েকে ধর্ষন করে মেরে বস্তা ভরে ফেলে দেবো। পরে বিচার না করে কালক্ষেপন করতে থাকে চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান ।
এভাবে দিনের পর দিন অতিবাহিত হওয়ার পর বিচার না পেয়ে মেয়ের মা লাকী বেগম গত ৩১ আগস্ট রাতে সুধারাম মডেল থানায় মামুন,আলী ও রিপনকে আসামী করে একটি অভিযোগ দায়ের করে। অভিযোগের ভিত্তিতে ৩ সেপ্টেম্বর মামলা গ্রহণ করেন সুধারাম মডেল থানা পুলিশ মামলা নং ০৬,২০২০ইং ।
এ বিষয়ে সরজমিনে গেলে এলাকাবাসী ও সাবেক ইউপি সদস্য নুর আলম কালা বলেন,বিষয়টি সম্পর্কে আমি জেনেছি এবং চেয়ারম্যান আমাকে মিমাংসা করার জন্য দায়িত্ব দিয়েছেন। আমি মামুনকে চড়,থাপ্পড় মেরে সমাধান করে দিয়েছি।তিনি ধর্ষনের কথা অস্বীকার করে বলেন এটা সামান্য উর্ন্না টানাটানির ঘটনা।
এ ব্যাপারে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান বলেন,এ বিষয়টি সর্ম্পকে আমি অবগত নয় ।এ ঘটনায় বাদী বিবাদী কেউ আমার নিকট আসেনি এবং আমি কাউকে কোন দায়িত্ব দেয়নি ।
সুধারাম মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নবীর হোসেন বলেন,এ বিষয়ে মেয়ের মা লাকী বেগম বাদী হয়ে থানায় একটি মামলা করেন তারই আলোকে আমরা আসামীদের ধরার জন্য ঝোর চেষ্টা চালাচ্ছি দ্রুত তাদের কে ধরে আদালতে সপর্দ করবো ।

Please follow and like us:

এরকম আরো সংবাদ