পতিত জমিতে ধান-সবজি চাষে সাফল্য

‘বেকার যুবকদের আদর্শ কৃষক দীন মোহাম্মদ’

দৈনিক নোয়াখালীবার্তা | ১৯ অক্টোবর, ২০২০ | ১৪:২২ অপরাহ্ণ |আপডেট: ১৯ অক্টোবর, ২০২০ | ১৪:২২

ষ্টাফ রিপোর্টার: ‘দেশের এক ইঞ্চি পতিত জমিও খালি থাকবে না’ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এমন ঘোষণা করোনাকালীন সময়ে ঘরে বসে টেলিভিশনের পর্দায় শোনার পর নোয়াখালী জেলা শহরের লক্ষ্মীনারায়ণপুর গ্রামের সৌখিন কৃষক দীন মোহাম্মদ নিজেই “পতিত জমিতে করবো চাষ, সুখে থাকবো বারো মাস” স্লোগান তৈরী করে শহরের বুকে তাঁর পতিত ৭০ শতাংশ জমিতে ব্রি-৫৪ ধান, সবজি ও বিভিন্ন জাতের ফলের গাছ লাগিয়েছেন। মাত্র তিন মাসের মধ্যে এ কৃষি কাজে সফলও হয়েছেন তিনি। শহরের উপর পতিত জমিতে অসময়ে ধানের ভালো ফলন দেখে চাষাবাদে উদ্বুদ্ধ হন অনেকে। বাড়ির আঙ্গিনায় বিষমুক্ত ফলন পেয়ে খুশি কৃষক পরিবার, স্বজন ও এলাকাবাসী।
কৃষক দীন মোহাম্মদের এমন সফলতায় গ্রামের বেকার যুবকরা উৎসাহিত হন তাদের পতিত জমিতে ফসল ফলানোর জন্য। রীতিমত দীন মোহাম্মদ এখন গ্রামের বেকার যুবকদের আদর্শ হয়ে উঠেছেন।
সরেজমিন জেলা শহরের লক্ষ্মীনারায়ণপুর গেলে দেখা গেছে, কৃষক দীন মোহাম্মদ তাঁর বাড়ির পাশে পড়ে থাকা ৭০ শতাংশ জমির মধ্যে ৫০ শতাংশ জমিতে ব্রি-৫৪ জাতের ধান লাগান। জমির চার পাশে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা টুকরো জমিতে মাটি ভরাট করে জৈবিক পদ্ধতিতে বিষমুক্ত লাউ, করলা, লাল শাখ, মিষ্টি কুমড়াসহ নানা ধরনের রঙ্গিন সবজি চাষ করেন। বাড়ির আঙ্গিণায় লাগিয়েছেন বিভিন্ন প্রজাতির ফলের গাছ।
দীন মোহাম্মদের পতিত জমির ধানের শীষে দৌল খাচ্ছে সবুজের সমারোহ। তিনি নিজ জমি থেকে লাউ, করলা, লাল শাখ, মিষ্টি কুমড়াসহ বিভিন্ন বিষমুক্ত সবজি পাচ্ছেন নিয়মিত। নিজ তৈরী একাধিক কৃষি ভিত্তিক স্লোগান ঝুলিয়ে দিয়েছেন জমির পাশে।
কৃষক দীন মোহাম্মদ বলেন, বঙ্গবন্ধু কন্যা ক্ষমতায় আসার পর কৃষির উন্নয়নে কৃষকদের সর্বাধিক সহযোগিতা দিয়ে আসছেন। দেশকে খাদ্যে স্বর্নিবর করে তুলতে প্রধানমন্ত্রী নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। করোনাকালীন সময়ে আমি টেলিভিশনের পর্দায় প্রধানমন্ত্রীর একটা ঘোষণা পেলাম, যে দেশের এক ইঞ্চি জমিও খালি থাকতে পারবে না। সকল পতিত জমি কৃষির আওতায় নিয়ে আসতে হবে। প্রধানমন্ত্রীর এ নিদের্শনা পেয়ে সরকারি গুদাম থেকে আমি ধানের বীজ নিয়ে এসে আমার পতিত ৭০ শতাংশ জমির মধ্যে ৫০ শতাংশ জমিতে অসময়ে ধান চাষ করি। তিনি বলেন, পতিত জমিতে ধান চাষে আমার বাড়তি কোন পরিশ্রম লাগেনি, নরমাল পরিশ্রমে আল্লাহর রহমতে অল্প সময়ে ধানের ভালো ফলন হয়েছে।
দীন মোহাম্মদের কৃষি কাজে সহযোগিতা করেন স্ত্রী, ৩ছেলে ও ২মেয়ে। বসতঘরের চারপাশ ও বাড়ির আঙ্গিনায় আছে আম, আমড়া, বাতাবি লেবু, কামরাঙ্গাসহ বিভিন্ন ফলের গাছ। বিষমুক্ত এসব ফসল তারা বাজারে বিক্রি না করে পরিবারের চাহিদা পূরনের পাশাপাশি আত্মীয়-স্বজন ও পাড়াপ্রতিবেশিদের বিলিয়ে দেন।
দীন মোহাম্মদের কৃষি জমি দেখতে আসা সালেহ উদ্দিন সবুজ, মো. রহমান, এ খালেক বলেন, পতিত জমির বালু মাটিতে অসময়ে ভালো ধান হয়েছে। উনার এ কৃষি কর্ম আমাদেরকে উৎসাহিত করে তুলেছে। বেকার সময় না কাটিয়ে উনার মতো বাড়ির আঙ্গিনায় কৃষি কাজ করলে আমরাও সফল হতে পারবো।
জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি আবু তাহের বলেন, প্রধানমন্ত্রীর ডাকে সাড়া দিয়ে নোয়াখালী শহরের মধ্যে কর্মক্ষমতা না থাকা স্বর্তেও দীন মোহাম্মদ নামের এ সৌখিন কৃষক পতিত জমিতে ধান ও সবজি চাষ করে ইতিমধ্যে জেলায় প্রশংসিত হয়েছেন। তিনি বলেন, দীন মোহাম্মদের এ কৃষি কাজ দেখে জেলা শহরের বহু মানুষ তাদের বাড়ির পতিত জমি ও বাড়ির ছাদে কৃষি কাজে উদ্বুদ্ধ হচ্ছেন। স্থানীয় সংসদ সদস্য একরামুল করিম চৌধুরীর প্রতিনিধি হিসেবে দ্বীন মোহাম্মদের কৃষি কর্ম দেখতে আসেন এ নেতা।
সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোশরেফুল হাসান বলেন, প্রধানমন্ত্রীর ঘোষনা অনুযায়ী দীন মোহাম্মদের মতো প্রতি বাড়িতে পতিত জমি আবাদ হলে নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন হবে এবং দেশ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ হবে।

Please follow and like us:

এরকম আরো সংবাদ