বেগমগঞ্জে বীর মুক্তিযোদ্ধা যাচাই-বাছাই কার্যক্রম স্থগিত

দৈনিক নোয়াখালীবার্তা | ১০ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ | ১৪:৩৯ অপরাহ্ণ |আপডেট: ১০ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ | ১৪:৩৯

ষ্টাফ রিপোর্টার : নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলায় স্থানীয় সংসদ সদস্য মামুনুর রশিদ কিরনের প্রতিনিধি নিয়ে বীর মুক্তিযোদ্ধা যাচাই-বাছাই কমিটির সভায় হট্টগোলের কারণে যাছাই-বাছাই কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছে।
বুধবার সকালে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) ও বীর মুক্তিযোদ্ধা যাচাই-বাছাই কমিটির সদস্য সচিব শামছুন নাহার বীর মুক্তিযোদ্ধা যাচাই-বাছাই কার্যক্রম স্থগিত ঘোষনা করেন।
উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয় সুত্রে জানা গেছে, বেগমগঞ্জ উপজেলায় ভাতাভোগী মুক্তিযোদ্ধা রয়েছেন এক হাজার ৩২১জন। এরমধ্যে মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রনালয় থেকে ৩৬৭জনের বিষয়ে যাছাই-বাছাইয়ের নির্দেশ আসে।
শনিবার (০৬ ফেব্রুয়ারী) সকাল ১০টায় বেগমগঞ্জ উপজেলা পরিষদের মিলনায়তনে বীর মুক্তিযোদ্ধা যাছাই-বাছাই সভার কার্যক্রম শুরু হয়। সভায় চেয়ারম্যান হিসেবে জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিলের (জামুকা) প্রতিনিধি নোয়াখালী জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ডা. এবিএম জাফর উল্ল্যাহ, উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) ও বীর মুক্তিযোদ্ধা যাচাই-বাছাই কমিটির সদস্য সচিব শামছুন নাহার, জেলা প্রশাসকের প্রতিনিধি মুক্তিযুদ্ধকালীন কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুল মান্নান ও স্থানীয় সংসদ সদস্য মামুনুর রশিদ কিরনের প্রতিনিধি বেগমগঞ্জ উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডের সাবেক কমান্ডার আবুল হোসেন বাঙ্গালী উপস্থিত ছিলেন।
সভার শুরুতেই জনৈক ইব্রাহিম সভায় এসে নিজেকে এমপির প্রতিনিধি বলে পরিচয় দিলে মুক্তিযুদ্ধারা হৈচৈ করে উঠে। এক পর্যায়ে তা হট্টগোলে রুপ নেয়। এতে ওই দিনের কার্যক্রম স্থগিত রাখা হয়।
মঙ্গলবার (০৯ ফেব্রুয়ারী) সকালে পুনরায় যাছাই-বাছাই কার্যক্রমের জন্য উপজেলা পরিষদের মিলনায়তনে তাঁরা একত্রিত হলে ইব্রাহিম বহিরাগত লোকজন নিয়ে সেখানে হট্টগোল শুরু করলে মুক্তিযোদ্ধারা এতে বাঁধা দেয়। এতে উভয় পক্ষের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। পরে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও বীর মুক্তিযোদ্ধা ডা. এবিএম জাফর উল্ল্যাহর হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি শান্ত হয়।
বেগমগঞ্জ উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডের সাবেক কমান্ডার আবুল হোসেন বাঙ্গালী বলেন, বীর মুক্তিযোদ্ধা যাচাই-বাছাই কমিটিতে অংশগ্রহণ করে সঠিকভাবে মুক্তিযোদ্ধা যাছাই-বাছাই কার্যক্রমে সহযোগিতা করার জন্য স্থানীয় এমপি মামুনুর রশিদ কিরন গত ২৮ জানুয়ারী স্বহস্তে লিখে আমাকে তাঁর প্রতিনিধি হিসেবে মনোনীত করেন। কিন্তু শনিবার যাছাই-বাছাই কার্যক্রমের সভায় হঠাৎ জনৈক ইব্রাহিম নিজেকে এমপি সাহেবের প্রতিনিধি পরিচয় দিয়ে হট্টগোল শুরু করে।
তিনি বলেন, বীর মুক্তিযোদ্ধা যাছাই-বাছাইয়ের তালিকায় ৫ থেকে ৬ শতাংশ অমুক্তিযোদ্ধা ব্যক্তি মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে তালিকায় অন্তভুক্ত রয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। ইব্রাহিম বীর মুক্তিযোদ্ধা যাছাই-বাছাই কমিটিতে অবস্থান নিয়ে ওই ভুয়া ব্যক্তিদের অসৎ উপায়ে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে বৈধতা প্রদানে সহযোগিতার উদ্দেশ্যেই এ হট্টগোল সৃষ্টি করেছে।
এদিকে বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. নুর নবী, মহিউদ্দিন হারুন ও রায়হান উদ্দিন রেনুসহ স্থানীয় বীর মুক্তিযোদ্ধারা জানান, মুক্তিযোদ্ধা যাছাই-বাছাই কমিটি থেকে আবুল হোসেন বাঙ্গালীকে বাদ দিয়ে অমুক্তিযোদ্ধাদের বৈধতা দিতে ষড়যন্ত্র করছে একটি চক্র। এ ষড়যন্ত্র প্রতিহত করে অমুক্তিযোদ্ধাদের শনাক্ত করে মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস সংরক্ষণ এবং প্রকৃত বীর মুক্তিযোদ্ধাদের একটি সঠিক ও নির্ভুল তালিকা প্রণয়নের দাবি তোলেন তাঁরা।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) ও বীর মুক্তিযোদ্ধা যাচাই-বাছাই কমিটির সদস্য সচিব শামছুন নাহার জানান, স্থানীয় এমপি মহোদয়ের প্রতিনিধিত্ব নিয়ে মুক্তিযোদ্ধাদের দু’গ্রুপের মধ্যে হট্টগোল হওয়ায় এ কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছে। এ বিষয়ে তিনি জেলা প্রশাসককে আজ (বুধবার) লিখিতভাবে জানাবেন। সংশ্লিষ্ট উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশ পেলেই পরবর্তী কার্যক্রম শুরু করা হবে।

Please follow and like us:

এরকম আরো সংবাদ