নোয়াখালীর ভাসানচর দেখে সন্তুষ্ট জাতিসংঘ প্রতিনিধি দল

দৈনিক নোয়াখালীবার্তা | ২১ মার্চ, ২০২১ | ১২:১২ অপরাহ্ণ |আপডেট: ২১ মার্চ, ২০২১ | ১২:১২

ষ্টাফ রিপোর্টার :  নোয়াখালী ভাসানচরে পরিদর্শন করে ‘সন্তোষ’ প্রকাশ করেছে জাতিসংঘের প্রতিনিধি দল। টানা তিনদিন এই দ্বীপ চর ও এর অবকাঠামো পরিদর্শন, নিবিড় পর্যবেক্ষণ, এবং সেখানে যাওয়া রোহিঙ্গাদের সঙ্গে কথা বলার পর এই প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন দলটির প্রতিনিধিরা।
শনিবার দুপুরে চট্টগ্রামের উদ্দেশ্যে নোয়াখালীর ভাসানচর ত্যাগ করেছে জাতিসংঘের প্রতিনিধি দল। এর আগে গত বুধবার চট্টগ্রাম থেকে নৌবাহিনীর তত্ত্বাবধানে ইউএনএইচসিআর বাংলাদেশের সহকারী প্রতিনিধি ফুমিকো কাশিওয়ার নেতৃত্বে ১৮ জনের দল ভাসানচর পৌঁছায়।
ভাসানচর প্রকল্পের (আশ্রয়ণ প্রকল্প-৩) উপপ্রকল্প পরিচালক কমান্ডার এম আনোয়ারুল কবির বলেন, আমরা যা জেনেছি, সব মিলিয়ে ভাসানচরের প্রকল্পটি দেখে যথেষ্ট সন্তুষ্ট হয়েছে জাতিসংঘের প্রতিনিধি দল। তিনি জানান, প্রতিনিধি দল টানা তিনদিন ভাসানচরের পরিবেশ, আবাসন, ঘূর্ণিঝড় আশ্রয় কেন্দ্রসহ বেড়িবাঁধ ঘুরে দেখে।
এছাড়া সেখানে অবস্থানরত রোহিঙ্গাদের দেয়া সুযোগ-সুবিধা পর্যবেক্ষণ করে। ভাসানচরে যেসব এনজিও কার্যক্রম চালাচ্ছে, তাদের সঙ্গেও বৈঠক করেছে প্রতিনিধি দল। এমনকি এখানে যেসব কাপড় বানানো হচ্ছে, সেগুলোর মান দেখে সন্তোষ প্রকাশ করেন তারা।
তিনি বলেন, আমরা যা জেনেছি সব মিলিয়ে ভাসানচরের প্রকল্পটি দেখে ‘যথেষ্ট সন্তুষ্ট’ হয়েছে জাতিসংঘের প্রতিনিধি দল।
রোহিঙ্গা নেতা মোহাম্মদ ফয়েজ উল্ল্যাহ জানান, ভাসানচর পরিদর্শনকালে জাতিসংঘের প্রতিনিধি দল কক্সবাজার থেকে আসা রোহিঙ্গাদের কাছ থেকে বারবার জানার চেষ্টা করেছিল তাদের জোর করে পাঠানো হয়েছিল কিনা। কিন্তু রোহিঙ্গারা বলেছেন, তারা স্বেচ্ছায় ভাসানচর গেছেন, তাদের কেউ জোর করেননি।
ভাসানচরে অবস্থানরত নুরুল ইসলাম মুঠোফোনে জানান, প্রথমবারের মতো পরিদর্শনে আসা জাতিসংঘের প্রতিনিধি দল প্রত্যেক ক্লাস্টারে গিয়ে রোহিঙ্গাদের সঙ্গে কথা বলেন। এ সময় রোহিঙ্গাদের খোঁজ খবর নেন। এছাড়া ক্যাম্প থেকে এখানকার জীবনমান কেমন এবং সুযোগ-সুবিধা কেমন পাচ্ছি, আর আমরা স্বেচ্ছায় এখানে এসেছি কিনা বিস্তারিত জানতে চান। এ ব্যাপারে নোয়াখালীর ভাসানচর থানার ওসি মো. মাহে আলম জানান, তিনদিন ঘুরে দেখার পর জাতিসংঘের প্রতিনিধি দল শনিবার দুপুরে ভাসানচর ত্যাগ করে। প্রতিনিধি দলটি ভাসানচরে অবস্থানরত আবাসনে গিয়ে রোহিঙ্গাদের সঙ্গে কথা বলে। এছাড়া সেখানকার পরিবেশ, পরিস্থিতি ঘুরে দেখে এবং রোহিঙ্গা নেতাদের সঙ্গে বৈঠকও করেছিল। এমনকি হাতিয়ার সঙ্গে ভাসানচরের চলাচল রুটসহ সেখানকার ভৌগোলিক অবস্থাও পর্যবেক্ষণ করে দেখেছেন তারা।
আরআরআরসি কার্যালয়ের তথ্যমতে, গত ডিসেম্বর থেকে পাঁচ দফায় ভাসানচর গেছেন মোট ১৩ হাজার ৭২৩ জন রোহিঙ্গা।

Please follow and like us:

এরকম আরো সংবাদ