নোয়াখালীতে স্বাস্থ্যবিধি মেনে দেড় বছর পর শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পাঠদান শুরু

দৈনিক নোয়াখালীবার্তা | ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২১ | ১৫:০২ অপরাহ্ণ |আপডেট: ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২১ | ১৫:০২

ষ্টাফ রিপোর্টার :  করোনা ভাইরাসের সংক্রমণের কারণে দীর্ঘ দেড় বছর বন্ধ থাকার পর সরকারি নির্দেশনা মোতাবেক সারাদেশের ন্যায় নোয়াখালীতেও খুলেছে প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো। প্রতিষ্ঠানগুলোতে ব্যবস্থা করা হয়েছে মাস্ক, হ্যান্ড স্যানিটাইজার ও স্বাস্থ্য সুরক্ষা সামগ্রীর।

জেলায় ১২৫৩টি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ২৯০টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, ৪১টি কলেজ ও ১৭২টি মাদ্রাসা রয়েছে। প্রথমদিনে শহরের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে উপস্থিতির হার শতকরা ৯০জন হলেও গ্রামের বিদ্যালয়গুলোতে ৭৫-৮০ ভাগের মত রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে। তবে করোনার সংক্রমণ থাকায় ছোট ছেলে-মেয়েদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিয়ে কিছুটা চিন্তিত অভিভাবকরা। এদিকে সল্প বরাদ্ধে প্রতিটি বিদ্যালয়ে মাস্ক, স্যানিটাইজার, সাবান’সহ সুরক্ষা সামগ্রীর ব্যবস্থা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে শিক্ষা কর্মকর্তারা।

রবিবার (১২ সেপ্টেম্বর) সকালে জেলার বিভিন্ন বিদ্যালয় ঘুরে দেখা গেছে, সকল শিক্ষার্থী, শিক্ষক-কর্মচারী এবং অভিভাবকরা মুখে মাস্ক পরে বিদ্যালয়ে প্রবেশ করেছে। বিদ্যালয়ের প্রবেশধারে থার্মোমিটার দিয়ে তাপমাত্রা মাপা হচ্ছে। শ্রেণি কক্ষে প্রবেশের আগে সবার হ্যান্ডস্যানিটাইজার ও হাত দোয়া নিশ্চিত করছেন শিক্ষকরা।

দীর্ঘদিন পর নিজেদের প্রিয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এসে আনন্দে আত্মহারা শিক্ষার্থীরা। একই সাথে স্বাস্থ্যবিধি মেনে ক্লাস করার ব্যাপারেও তারা সচেতন রয়েছে বলে জানায়। শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করতে বাইরের খাবার বর্জনসহ প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে বলে জানান শিক্ষকরা। বাসায় কেউ অসুস্থ থাকলে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে জানিয়ে যেন বাচ্চাকে স্কুলে না পাঠায় সে ব্যাপারে সচেতন থাকার পরামর্শ দিয়েছেন তারা।

সকাল থেকে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন করেছেন, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ খোরশেদ আলম খান, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারহানা জাহান উপমা, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. সাইদুল ইসলামসহ শিক্ষা কর্মকর্তারা।
নোয়াখালী জিলা স্কুলের দশম শ্রেণির বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্র অর্নব হোসেন জানায়, দীর্ঘ দিন আমরা ক্লাস করতে না পারায় লেখা পড়ার অনেক ক্ষতি হয়েছে। তবে নতুন উদ্যোমে ক্লাস করতে পেরে অনেক খুশি আমরা।

নোয়াখালী সরকারি বালিকা বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী মারিয়া জাহান বলেন, অনেকদিন পর বিদ্যালয় খুলছে। আমরা দীর্ঘদিন ধরে বাসায় অলস সময় কাটিয়েছে। এখন বিদ্যালয় খুলছে, পাঠদান শুরু হয়েছে একই সাথে পরীক্ষাও হবে বলে আমরা আশা করি।
মনির হোসেন নামের একজন অভিভাবক বলেন, সকালে আমার বাচ্চা বিদ্যালয়ে আসতে ফেরে অনেক উৎফুল্ল্য দেখলাম। বিদ্যালয় আঙ্গিনায় সহপাঠিদের দেখতে পেয়ে অনেক খুঁশি সে। করোনার জন্য আমরা তাদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিয়ে কিছুটা চিন্তিত। তবে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে আমাদের অনুরোধ থাকবে, যেন শ্রেণি কক্ষে শিক্ষার্থীদের সামাজিক দূরত্ব ও স্বাস্থ্য বিধি মেনে পাঠদান দেওয়া হয়।

নোয়াখালী সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মেহেরুন নেছা জানান, নতুন করে আমাদের বিদ্যালয়ের কার্যক্রম চালু হয়েছে। দু’টি সিফটে চলছে আমাদের পাঠদান। বিদ্যালয়ের প্রদান ফটকে হ্যান্ডস্যানিটাইজার ও তাপমাত্রা দেখে ভিতরে প্রবেশ করানো হচ্ছে। প্রথমদিনে ১০ম শ্রেণির ১৫৪জন শিক্ষার্থীর মধ্যে ২৩জন এবং ১১০জনের মধ্যে ১২জন শিক্ষার্থী অনুপস্থিত ছিলো।
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. মইনুল ইসলাম জানান, সরকারি নির্দেশে একযোগে জেলার ১২৫৩টি বিদ্যালয় খোলা হয়েছে। সকাল থেকে শহরের এম রশিদ বিদ্যালয়, জেলা প্রশাসক স্কুল এন্ড কলেজ, জিলা স্কুল ও সরকারি বালিকা বিদ্যালয়সহ কয়েকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আমরা পরিদর্শন করেছি। বিদ্যালয়গুলোতে ৯০ভাগ শিক্ষার্থী উপস্থিত রয়েছে। এছাড়াও গ্রাম পর্যায়ের বিদ্যালয়গুলোতে ৮০ভাগের ওপরে উপস্থিতি ছিল। আগামীকাল থেকে শিক্ষার্থীদের উপস্থিত আরও বাড়বে বলে আশা করেন তিনি।
জেলা মাধ্যমিক শিক্ষক অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) নূর উদ্দিন মো. জাহাঙ্গীর জানান, প্রতিটি বিদ্যালয়রে পক্ষ থেকে স্বাস্থ্য সুরক্ষার ব্যাপারে প্রয়োজনীয় সকল ব্যবস্থা নেওয়া হয়ছে। কোন শিক্ষার্থী যদি অসুস্থ বোধ করে তাহলে দ্রুত শিক্ষকদের অবহিত করার জন্য শিক্ষার্থীদের নির্দেশনা দেয়া হয়ছে বলেও জানান তিনি।
জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ খোরশেদ আলম খান বলেন, আমরা বেশ কয়েকটি প্রাথমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয় পরিদর্শন করেছি। শিক্ষামন্ত্রণনালয়ের নিদের্শ অনুসারে প্রতিটি বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। বিদ্যালয়গুলোতে আইশোলেসনের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

Please follow and like us:

এরকম আরো সংবাদ