সরকারি খরচে নৌকায় ভোট চাওয়া বন্ধ করেন : মওদুদ আহমদ

নোয়াখালী বার্তা | ৩ মার্চ, ২০১৮ | ১০:১৩ পূর্বাহ্ণ |আপডেট: ৩ মার্চ, ২০১৮ | ১০:১৩

নোয়াখালী বার্তা ডেস্ক: বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেছেন, হয় সরকারি খরচে সরকারি দলের ভোট চাওয়া বন্ধ করেন, না হলে আমাদেরও অনুমতি দেন, যেন আমরাও গিয়ে ধানের শীষের পক্ষে ভোট চাইতে পারি।

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তি দাবিতে শনিবার ৩ মার্চ জাতীয় প্রেসক্লাবে বাংলাদেশ লেবার পার্টি আয়োজিত ‘প্রতিহিংসার রাজনীতি: জাতীয় নির্বাচন ও বর্তমান প্রেক্ষাপট’ শীর্ষক আলোচনা সভায় এ কথা বলেন মওদুদ।

প্রধানমন্ত্রীর খুলনা সফর নিয়ে মওদুদ বলেন, ‘আজ তিনি খুলনা গেছেন, উন্নয়নের কথা বলে নৌকায় ভোট চাইবেন। আর আমার নেত্রী জেলখানায় থাকবেন। নির্বাচন কমিশন বলে তাদের কিছু করা যাবে না। তিনি সরকারি খরচে যাবেন, হেলিকপ্টারে যাবেন, সমস্ত খরচ বহন করবে সরকার। নির্বাচন কমিশনের বিধিমালায় আছে যে, নির্বাচনের সময় কোনো মন্ত্রী বা কেউ উন্নয়নের কোনো ওয়াদা দিতে পারবে না।

‘তারা জানেন, তফসিল ঘোষণা হওয়ার পরে সরকারি খরচে এবং এসব উন্নয়নমূলক কাজের জন্য জনগণকে পরোক্ষভাবে ঘুষ দেওয়া এবং কথা বলে সন্তুষ্ট করা যে, আমি এটা করে দেবো, স্কুল, রাস্তা, ব্রিজ করে দেবো; এগুলো করা মানা। যেহেতু নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা হওয়ার পরে এগুলো করতে পারবেন না, সেহেতু তারা এই সময়ে সেই সুযোগটা নিচ্ছেন, এটা অনৈতিক এবং বেআইনি। এটা পুরোপুরিভাবে জাতির সঙ্গে প্রতারণা ছাড়া আর কিছুই না।’

মওদুদ বলেন, নির্বাচন কমিশন বলে তাদের কিছু করার নেই। তাদের তো শক্তি নেই, সাহস নেই। তারা তো নিরপেক্ষ নয়। তারা তো সরকারের তল্পিবাহক প্রতিষ্ঠান। আজকে যদি ভারতে হতো, তাহলে হতো অন্য রকম।

‘হয় তাদের বন্ধ করতে বলেন ভোট চাওয়ার ব্যাপারে সরকারি খরচ, না হলে আমাদেরও অনুমতি দেন, যেন আমরাও গিয়ে ধানের শীষের পক্ষে ভোট চাইতে পারবো। আমি মনে করি নির্বাচনী বিধি তারা লঙ্ঘন করছেন।’

বর্তমান সরকারের দুর্নীতির শ্বেতপত্র বের করার বক্তব্যের পরে অনেকে তাকে সতর্ক করেছে উল্লেখ করে মওদুদ বলেন, প্রধানমন্ত্রী মনে হয় রাগান্বিত। আমার বাড়ি নিয়ে গিয়েও বোধ হয় মনে শান্তি আসেনি।

‘আমার কিন্তু তার ওপরে রাগ নেই। তিনি যেভাবে দেশ পরিচালনা করছেন, যদি তিনি আর একটু হতেন, তাহলে বোধ হয় আমরা সত্যিকার অর্থে বাংলাদেশকে একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে পরিণত করতে পারতাম।’

মওদুদ বলেন, আওয়ামী লীগের কালিমা ১৯৭৫ সালের ২৫ জানুয়ারি, সেটা কোনো দিন যাবে না। আওয়ামী লীগ সংবিধানকে খণ্ড-বিখণ্ড করে। সেই দলের বর্তমান সভাপতি, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী সেই কালিমা দূর করে দেওয়ার জন্য একটা সুযোগ পেয়েছিলেন, কালিমা দূর করে দেওয়ার জন্য।

মওদুদ বলেন, আমাদের নেত্রীকে একটা ভুয়া মামলা দিয়ে পাঁচ বছরের সাজা দিয়েছেন। খালেদা জিয়া ছাড়া বাংলাদেশে কোনো গ্রহণযোগ্য নির্বাচন হবে না এবং কোনো নির্বাচন হতে দেওয়া হবে না। আমরা খালেদা জিয়াকে সঙ্গে নিয়ে আগামী নির্বাচনে অংশ নেবো।

লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরানের সভাপতিত্বে সভায় বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান বরকত উল্লাহ বুলু, চট্টগ্রাম বিএনপি নেতা মীর মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন, লেবার পার্টির ভাইস-চেয়ারম্যান এসএম ইউসুফ আলী, মহাসচিব ফরিদ উদ্দিন প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

Please follow and like us:
error0

এরকম আরো সংবাদ