Select Page

আজ বুধবার, ৮ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৩ খ্রিস্টাব্দ, ২৫শে মাঘ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ, ১৬ই রজব, ১৪৪৪ হিজরি সময়: রাত ১১:১৯

ভুল চিকিৎসায় মা-মেয়ের মৃত্যু, হাসপাতাল সিলগালা

দৈনিক নোয়াখালীবার্তা
Noakhali Barta is A News Portal of Noakhali.

নভে ২৪, ২০১৭ | বিশেষ প্রতিবেদন

স্টাফ রিপোর্টার: ডাক্তারের ভুল অপারশনে কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়ায় মা ও তার নবজাতকের মৃত্যুর পর টনক নড়েছে উপজেলা প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগের। নিহত প্রসূতির মা মনোয়ারা বেগম বাদী হয়ে বৃহস্পতিবার সংশ্লিষ্ট ডাক্তার এম শরীফ ও হাসপাতালের মালিক মারুফ আহাম্মদসহ অজ্ঞাত আরও ৪/৫ জনকে অভিযুক্ত করে থানায় মামলা করেন।

এছাড়া ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে সিলগালা করে দেয়া হয়েছে অবৈধভাবে পরিচালনা করা উপজেলার মাধবপুর রয়েল হসপিটাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারটি। এ ঘটনার পর এলাকা ছেড়ে পালিয়েছে অভিযুক্ত ডাক্তার এম শরীফ আহাম্মদ ও অন্যান্যরা।

এদিকে, কুমিল্লার সিভিল সার্জন ডা. মজিবুর রহমান নির্দেশে অনিয়ম, অব্যবস্থাপনা এবং বিনা লাইসেন্সে হাসপাতালের কার্যক্রম পরিচালনার অভিযোগে ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য প্রশাসন ও ব্রাক্ষণপাড়া উপজেলা প্রশাসন কর্তৃক বৃহস্পতিবার ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) সম্রাট খীসা এবং ব্রাক্ষণপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আরএমও ডা. কামরুল হাসান।

এ সময় মাধবপুর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অবস্থিত রয়েল হাসপাতাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে মা ও নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় সিলগালা করে দেয়া হয়।

এছাড়া অবৈধভাবে চলা একই এলাকার মাতৃসেবা জেনারেল হসপিটাল সিলগালা করে বন্ধ করে দেয়াসহ উপজেলার অন্যান্য স্থানে আরও কয়েকটি স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানে জরিমানা করা হয়।

গতকাল বুধবার ভোরে জেলার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার কান্দুঘর গ্রামের ব্যবসায়ী উজ্জলের স্ত্রী সুনিয়া আক্তারের (২২) প্রসবকালীন ব্যথা উঠলে তাকে রয়েল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

এ সময় ওই প্রসূতির সিজারিয়ান অপারেশনে কন্যা সন্তান জন্ম হয়। কিন্তু অপরারেশনের পর বাচ্চার অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে ডাক্তার শরীফ সোনিয়ার ভগ্নিপতি আবদুল মান্নানকে পাশের দেবিদ্বারে নবজাতককে নিয়ে চিকিৎসা করতে বলেন।

দেবিদ্বার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স আনার পথে নবজাতকের মৃত্যু হয়। পরে কিছুক্ষণ পর সোনিয়ার অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে কুমেক হাসপাতালে নেয়ার পর তারও মৃত্যু হয়।

এ খবর এলাকায় জানাজানি হলে এলাকার উত্তেজিত লোকজন ওই হাসপাতালটি ভাঙচুর করে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছলে অপারেশনকারী ডা. শরীফ, হাসপাতালের মালিক ও কর্মচারীরা পালিয়ে যায়।

এ বিষয়ে সোনিয়ার ভগ্নিপতি আবদুল মান্নান বলেন, আমরা পরে জানতে পেরেছি ডা. শরীফ ভারত থেকে ভুয়া ডিগ্রি এনে ডাক্তারি করছেন। এর আগেও তার হাতে ওই হাসপাতালে অরেক রোগীর মৃত্যু হয়েছিল। কিন্তু স্বাস্থ্য বিভাগে তদবির করে অবৈধভাবে ওই হাসপাতালে অপারেশন করে একের পর এক মানুষ হত্যা করে যাচ্ছেন তিনি।

সোনিয়ার স্বামী বলেন, ডাক্তারের ভুল অপারেশনের কারণে আমার স্ত্রী ও নবজাতকের মৃত্যু হয়েছে। অনেক আগেই এ হাসপাতালটি বন্ধ করার দরকার ছিল।

বৃহস্পতিবার রাতে কুমিল্লা সিভিল সার্জন জানান, এ ঘটনা তদন্ত করতে বুধবার বিকেলে চার সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। আগামী ৭ দিনের মধ্যে এ বিষয়ে প্রতিবেদন দাখিল করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, কুমিল্লায় অবৈধভাবে চলা প্রাইভেট হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের বিরুদ্ধে অভিযান চলছে। রয়েল হাসপাতালটির অবৈধভাবে পরিচালনা করা এবং প্রসূতি ও নবজাতকের মৃত্যুর অভিযোগে তা সিলগালা করে দেয়া হয়েছে।

Facebook Comments Box

সর্বশেষ সংবাদ

Archive Calendar

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২
১৩১৪১৫১৬১৭১৮১৯
২০২১২২২৩২৪২৫২৬
২৭২৮