Select Page

আজ রবিবার, ২৬শে মার্চ, ২০২৩ খ্রিস্টাব্দ, ১২ই চৈত্র, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ, ৩রা রমজান, ১৪৪৪ হিজরি সময়: ভোর ৫:০৯

সিএনজিবিমুখ যাত্রীরা, পরস্পরকে দুষছেন চালক-মালিক

দৈনিক নোয়াখালীবার্তা
Noakhali Barta is A News Portal of Noakhali.

নভে ২৮, ২০১৭ | জাতীয়

স্টাফ রিপোর্টার: যাত্রী সেবার গুণগত মান বাড়ানোর কথা বলে টু-স্ট্রোক বেবিটেক্সিকে সরিয়ে দিয়ে ২০০২ সালে রাজধানী ঢাকায় চলাচল শুরু করে সিএনজিচালিত অটোরিকশা। নির্দিষ্ট দূরত্বে মিটারে চলাচলের কথা থাকলেও যাত্রীদের সঙ্গে চুক্তিতে চলাচল শুরু করে এই অটোরিকশা। আস্তে আস্তে যাত্রীরাও একরকম জিম্মি হয়ে পড়েন এসব অটোচালকদের কাছে। প্রথমবারের মতো বিকল্প হিসেবে মোবাইল অ্যাপভিত্তিক পরিবহন সেবার খোঁজ পেয়েই সিএনজি থেকে মুখ ফিরিয়ে নিতে শুরু করেছেন যাত্রীরা। আর এতে অলস সময় কাটাতে হচ্ছে সিএনজিচালিত অটোরিকশার চালকদের। আর এই পরিস্থিতির জন্য পরস্পরের ওপর দোষ চাপাচ্ছেন সিএনজিচালিত অটোরিকশার মালিক এবং চালকরা।

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ঢাকায় বর্তমানে কম-বেশি ২০ হাজার সিএনজিচালিত অটোরিকশা চলাচল করছে। ২০০১ সালে প্রথমবার ভাড়া নির্ধারণ করে দেওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত তা ৪ দফায় বাড়ানো হয়েছে। চালকরা দৈনিক যে ভাড়া মালিকদের দিয়ে থাকেন, তা-ই হচ্ছে জমা। মালিকের এই জমা বাড়ানো হয়েছে মোট ৩ দফায়।

২০০১ সালে মালিকের জমা নির্ধারণ করা হয় ৩০০ টাকা। এরপর তা বাড়িয়ে ২০০৭ সালে ৪৫০ টাকা এবং এর এক বছর পর অর্থাৎ ২০০৮ সালে তা বাড়িয়ে ৬০০ টাকা করা হয়। সর্বশেষ ২০১৫ সালে অটোরিকশা মালিকদের জমা নির্ধারণ করা হয় ৯০০ টাকা। অন্যদিকে ২০০১ সালে কিলোমিটার প্রতি ভাড়া ছিল ৬ টাকা, যা ৪ দফায় বেড়ে ২০১৫ সালে ১২ টাকা হয়।

সাধারণত একদিন ভাড়া নিলে সকাল ৭টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত অটোরিকশা চালাতে পারেন একজন চালক। এ সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় গ্যাস তাকেই নিতে হয়। এ ছাড়া অটোরিকশার ছোট ধরনের কোনো সমস্যা হলে, চালককেই মেরামত করে নিতে হয়। তবে বড় কোনো সমস্যা হলে তা মালিকই সমাধান করে দেন।

তবে একাধিক অটোরিকশাচালক জানান, অনেক মালিক পালা করে দুই ভাগে অটোরিকশা ভাড়া দিয়ে থাকেন। এক্ষেত্রে সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত এবং বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত ভাগ করা হয়। প্রতি পালার জন্য ৬০০ থেকে সাড়ে ৬০০ টাকা ভাড়া দিতে হয়।

চালকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, যাত্রী ভালো পাওয়া গেলে দৈনিক ১৬০০ থেকে ১৮০০ টাকা আয় হয় তাদের। গ্যাসের জন্য প্রতিদিন খরচ করতে হয় ২০০ থেকে ৩০০ টাকা। আর অন্যান্য ছোট খাতে খরচের জন্য বরাদ্দ রাখতে হয় ১০০ টাকার মতো।

সেই হিসাবে জমাসহ একজন চালকের প্রতিদিনের খরচ ১২০০ থেকে ১৩০০ টাকা। একজন চালকের দিনে ৪০০ থেকে ৬০০ টাকা আয় হতো। কিন্তু মালিককে অতিরিক্ত টাকা জমা দেওয়ার কারণে অনেক সময়ে তাদের খরচের টাকাই তুলতে বেগ পেতে হয় বলে দাবি চালকদের। আর এ চাপ সামলাতেই যাত্রীদের কাছ থেকে অধিক ভাড়া আদায় করতে হয় বলে জানান চালকরা।

সিএনজিচালিত অটোরিকশা মিটারে যেতে চায় না বলে দীর্ঘদিনের অভিযোগ যাত্রীদের। কিন্তু চালকরা বলেন ভিন্ন কথা। তাদের অভিযোগ, যাত্রীরাই বরং মিটারে যেতে চান না। যানজটে বেশি সময় অপেক্ষা করতে ‘ওয়েটিং চার্জের’ কারণে যাত্রীরাই চুক্তিতে যেতে চান বলে দাবি চালক আব্দুর রশিদের। তিনি বলেন, ‘আমরা মিটারে যেতে চাই না, এটা ঠিক না। যানজটের ভয়ে যাত্রীরাই মিটারে যান না। কিন্তু এ কথা কেউ বলেন না। দোষ শুধু আমাদের দেন।’

যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অজুহাত হিসেবে মালিককে অতিরিক্ত জমা দেওয়ার কথা বলেন অধিকাংশ চালক। ফার্মগেটে যাত্রীর জন্য অপেক্ষা করছিলেন সিএনজিচালক জাফর। যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের বিষয়ে জানাতে চাইলে তিনি দোষ চাপান মালিকদের ওপর। ‘নয়শ টাকার জায়গায় প্রতিদিন মালিককে এগারশ’ টাকা দিতে হয়। তাই পুষিয়ে নিতে চুক্তিতে চালাতে হয়। তবে এখন যাত্রীরা যেভাবে বলে সেভাবেই চালাই’, বলেন জাফর।

তবে ভিন্ন কথা জানান সিএনজি অটোরিশায় নিয়মিত যাতায়াতকারী একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মী আজাদ হোসেন। তিনি বলেন, ‘মিটারে কেন যেতে চাইব না। চালকরা নিজেদের দোষ ঢাকতেই এই কথা বলছেন। আমি যখনই মিটারে যাওয়ার জন্য তাদের বলি, অধিকাংশ সময়ই তারা যেতে অস্বীকার করেন।’

বেশ কয়েকবার সরকার সিএনজিচালক-মালিকদের দাবি-দাওয়া মেনে নিয়ে কয়েক দফা ভাড়া বাড়ানোর পরও কেন যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায়, এমন প্রশ্নের জবাবে রহিম নামের আরেক চালক বলেন, ‘জমার সাথে ভাড়া বাড়ানো হয়, এটা ঠিক কথা। কিন্তু নির্ধারিত জমার থেকেও অতিরিক্ত জমা আদায় করেন মালিকরা। জমা যখন ৬০০ টাকা নির্ধারিত ছিল, তখন তারা আদায় করতে ৮০০ থেকে ৯০০ টাকা। আবার এখন ৯০০ টাকার জায়গায় ১২০০ টাকা আদায় করেন।’

তবে অতিরিক্ত জমা আদায়ের কথা অস্বীকার করেন তসলীম হোসেন নামের সিএনজিচালিত অটোরিকশা মালিক। তিনি বলেন, ‘কোনো অবস্থাতেই চালকদের কাছ থেকে সরকার নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে অতিরিক্ত টাকা নেওয়া হয় না। অন্তত আমি নেই না। আমার চালকরা আমাকে ৯২০ টাকা জমা দেয় প্রতিদিন। এর মধ্যে ৯০০ টাকা জমা এবং ২০ টাকা গ্যারেজ ভাড়া হিসেবে নেওয়া হয়। তবে শুনেছি অনেক চালক অতিরিক্ত জমা কথা বলে যাত্রীদের কাছ থেকে বেশি ভাড়া আদায় করেন। এর দায় তো মালিক নেবে না।’

এদিকে জসীম নামের অন্য এক অটোরিকশার মালিক অস্বীকার করেন দুই দফায় ভাড়া দেওয়ার কথা। তিনি বলেন, ‘আমার অটোরিকশা চালান নির্ধারিত চালক। দীর্ঘ দিন ধরে তারা আমার গাড়ি চালাচ্ছে। দুই দফায় ভাড়া দেব কেন। তবে অন্য কোনো মালিক দিতে পারে। সেক্ষেত্রে চালকের ইচ্ছা না থাকলে তো আর সম্ভব না।’

তবে যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের কারণ হিসেবে রাস্তায় ট্রাফিক পুলিশকে চাঁদা দেওয়ার কথাও বলেন কয়েকজন চালক। কারণে-অকারণে দেওয়া হয় মামলা। পার্কিংয়ের জন্য নেই নির্ধারিত স্থান। সেই সঙ্গে সিএনজি নিতে দিনে দেড় থেকে দুই ঘণ্টা সময় ব্যয় হয়। আর এসব কারণেই যাত্রীদের কাছ থেকে বেশি ভাড়া আদায় করতে হয় বলে দাবি চালকদের।

এদিকে উবার, পাঠাওয়ের মতো মোবাইল অ্যাপভিত্তিক সেবা বন্ধসহ ৮ দফা দাবিতে আগামী ২৭ ও ২৮ ডিসেম্বর ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে ঢাকা ও চট্টগ্রাম জেলা সিএনজি অটোরিকশা শ্রমিক ঐক্য পরিষদ। এ ছাড়া আগামী ১০ ডিসেম্বর বিআরটিএ ভবন ঘেরাও কর্মসূচি ঘোষণা করেছে সংগঠনটি।

তবে এ ধর্মঘটের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছে চালকদের অপর একটি সংগঠন ঢাকা অটোরিকশা শ্রমিক ইউনিয়ন। সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ হানিফ খোকন প্রিয়.কম-কে বলেন, ‘ডিজিটাল বাংলাদেশে অ্যাপভিত্তিক সেবার বিপক্ষে অবস্থান নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। উবার কিংবা পাঠাওয়ের বিপক্ষে আমরা নই। তবে তাদের একটি নীতিমালার মধ্যে আনতে হবে। ইতোমধ্যে সড়ক পরিবহন মন্ত্রণালয়ে আমরা এ বিষয়ে ১২টি প্রস্তাব দিয়েছি।’

যাত্রী ফেরাতে সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালকদের সেবার মান বাড়ানোর ওপর জোর দেন এই শ্রমিক নেতা।

Facebook Comments Box

সর্বশেষ সংবাদ

Archive Calendar

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২
১৩১৪১৫১৬১৭১৮১৯
২০২১২২২৩২৪২৫২৬
২৭২৮২৯৩০৩১