Select Page

আজ সোমবার, ২৮শে নভেম্বর, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ, ১৩ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ, ৩রা জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৪ হিজরি সময়: রাত ৮:১৯

নোয়াখালীতে হামলা ও লুটপাট চালিয়ে বাড়ি-ঘর দখলের চেষ্টা

দৈনিক নোয়াখালীবার্তা
Noakhali Barta is A News Portal of Noakhali.

ষ্টাফ রিপোর্টার: নিজ ছেলের নির্দেশে স্বামীর হাতে নির্যাতনের শিকার হয়ে মামলা করায় চরম বিপাকে পড়েছেন খোদেজা বেগম (৫০) নামের এক গৃহবধূ। নির্যাতনের শিকার ওই গৃহবধূ মামলা করায় তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে তার ওপর হামলা চালিয়ে বাড়ি-ঘরে লুটপাট চালিয়ে বাড়ি-ঘর দখলে নেওয়া চেষ্টাও চালানো হয়। পরে ৯৯৯ এ ফোন করলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ওই গৃহবধূকে উদ্ধার করে।

নোয়াখালীর সেনবাগ উপজেলার ছাতারপাইয়া গ্রামের হাজী বাড়িতে মো. রফিক উল্যা (৬০) নামের এক ব্যক্তি বড় ছেলের নির্দেশে নিজ স্ত্রীর ওপর এমন নির্যাতনের ঘটনা ঘটিয়েছে। বৃহস্পতিবার রাতে নোয়াখালীর পুলিশ সুপার বরাবর লিখিত অভিযোগে ওই গৃহবধূ এমন অমানুষিক নির্যাতনের বর্ণনা তুলে ধরেন।

গৃহবধূ খোদেজা বেগম বলেন, আমার দুই ছেলে মো. সোহেল ও মমিন উল্যাহ কাতার প্রবাসী। ২০১৭ সালে বড় ছেলে মো. সোহেল মেজো ছেলে মমিন উল্যাহর কাছ থেকে ধাপে ধাপে ৭০ লাখ টাকা হাওলাত নেয়। ওই পাওনা টাকা চাইতে গেলে দুই ভাইয়ের মধ্যে বিরোধ দেখা দেয়। আমি মা হিসেবে উভয়ের মধ্যে কথা বলে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করি। এ নিয়ে বড় ছেলে সোহেল আমার ওপর ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে এবং আমার সংসারে অশান্তি শুরু হয়।

খোদেজা বেগম বলেন, চলতি বছরের ৩ জানুয়ারি প্রবাস থেকে আমার মেজো ছেলে মমিন উল্যাহ দেশে ফিরে তার বাবার মাধ্যমে বড় ভাইয়ের কাছ থেকে পাওনা ৭০ লাখ টাকা আদায়ের জন্য চাপ প্রয়োগ করলে তার বাবা রফিক উল্যা মোটা অংকের টাকার লোভে বড় ছেলের পক্ষ নিয়ে মেজো ছেলের ওপর অমানুষিক নির্যাতন ও মিথ্যা-সাজানো মামলা দিয়ে হয়রানী শুরু করে। এতে আমি বাধা দিলে বড় ছেলে সোহেলের নির্দেশে আমার স্বামী আমাকে বেদড়ক পিটিয়ে আমার দুই পা ভেঙ্গে ফেলে। এতে আমি দীর্ঘদিন বিছানায় শয্যাশায়ী থাকি। তার পরও সংসারের সুখের কথা ভেবে কোন ধরনের আইনগত ব্যবস্থা নেইনি।

গৃহবধূ বলেন, সাম্প্রতিক বড় ছেলের নির্দেশে আমার স্বামী রফিক উল্যা আমি এবং ছোট ছেলে রহিম উল্যা তুহিনকে আমার পৈত্রিক সম্পত্তি বিক্রির টাকায় নিজ নামে ক্রয়কৃত জমিতে নির্মাণাধীন পাকা বাড়ি থেকে বের করে দিতে গত ২৮ মার্চ আমার বসত বাড়িতে হামলা ও ভাংচুর চালিয়ে আমাকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে গুরত্বর আহত করে। এসময় আমার স্বামী এবং তার সহযোগীরা আমার গলায় ছোরা ধরে জোরপূর্বক একাধিক সাদা (লেখা বিহীন) স্ট্র্যাম্পে আমাকে দিয়ে স্বাক্ষর করিয়ে নেয়।
¬
গৃহবধূ বলেন, ওই ঘটনায় ৩১ মার্চ আমি নোয়াখালীর বিজ্ঞ বিচারিক আদালতে মামলা দায়ের করলে তারা আরো বেপরোয়া হয়ে ওঠে। আমার স্বামী-সন্তান তাদের বিরুদ্ধে দেওয়া মামলা তুলে নিতে চাপ প্রয়োগ করে। মামলা না তুললে আমি এবং আমার ছোট ছেলেকে প্রাণে হত্যা করে লাশ গুম করার হুমকি দেয়। আমি তাদের কথা না শুনায় গত ১৭ জুন পুনরায় বড় ছেলের নির্দেশে আমার স্বামী রফিক উল্যা, তার চাচাতো ভাই শফিক উল্যা, শাহাজানসহ ১০/১২ আমার মালেকিয় ও দখলীয় বসত বাড়িতে হামলা ও ভাংচুর চালিয়ে আমাকে এবং আমার ছোট ছেলেকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে ঘরের আলমিরা থেকে নগদ ৩ লাখ টাকা এবং ৫ ভর্রি স্বর্ণালঙ্কার লুট করে আমাদেরকে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়ার চেষ্টা করে। এসময় স্থানীয় ইউপি সদস্য ও আশপাশের লোকজন এসে আমাদেরকে হামলাকারীদের কবল থেকে উদ্ধারের চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়। পরে আমি ৯৯৯ এ ফোন করলে পুলিশ এসে আমাদেরকে উদ্ধার করে। থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়ার পরেও এখন পর্যন্ত অপরাধীদের বিরুদ্ধে আইনগত কোন ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য আনোয়ার হোসেন ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানান, স্বামী এবং বড় ছেলের সাথে মোজো ছেলের পাওনা টাকা নিয়ে গৃহবধূ খোদেজা বেগমের বিরোধ দীর্ঘদিনের। ওই বিরোধের জের ধরে খোদেজা বেগম আদালতে মামলা করার কারণে গত ১৭ তারিখে পুনরায় তার বাড়িতে গিয়ে বিরোধে জড়ায় স্বামী সফিক উল্যা।

পরে আমরা ঘটনাস্থলে গিয়ে বাধা দিলে তাতেও কোন কর্ণপাত করেননি তারা। এরপর পুলিশ এসে তাদের উদ্ধার করে।সেনবাগ থানার ওসি তদন্ত রুহুল আমিন জানান, ৯৯৯ এর ফোন পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে উভয় পক্ষের কথা শুনেছে। উভয় পক্ষই থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। ঘটনাটি তদন্তাধীণ আছে। তদন্ত শেষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Facebook Comments Box

সর্বশেষ সংবাদ

Archive Calendar

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২১৩
১৪১৫১৬১৭১৮১৯২০
২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
২৮২৯৩০